
খান মোহাম্মদ রুবেল হোসেন:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে কেন্দ্র করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের আওতাধীন ১৭টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৯৩৪টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৫২৮টিতে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে। নতুন করে আরও ৮৪৮টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লালমাই উপজেলায় মোট ৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নির্বাচনের দিন এসব কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ টাকা। সে হিসেবে লালমাই উপজেলার ৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের জন্য মোট ১১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
লালমাই উপজেলার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়, জামুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কনকশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়, কনকশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুশ্চি সমবায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুলাতুলি বেলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেলবার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, গৈয়ারভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৈয়ারভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, জালগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যুক্তিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাবকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতেলোটা দারুস সুন্নাহ নেসারিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং মোহনপুর আলিম মাদ্রাসা।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, “বিগত জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘটিত সহিংসতার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নয়, সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।”