
সংবাদ: শ্যামল বড়ুয়া ববি
ভাষা কাউকে শিখিয়ে দিতে হয় না—যে যে দেশে জন্মায়, সে সেই ভাষাতেই কথা বলে। অথচ দেড় হাজার কিলোমিটার দূরের উর্দু ভাষা বাংলাভাষীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম দাঁতভাঙা প্রতিবাদ করেছিলেন কুমিল্লার কৃতিসন্তান শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত, যিনি পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবি উত্থাপন করেন। সেই প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ১৯৭১ সালে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং তাঁর মরদেহও ফেরত দেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার কুমিল্লার সন্তান রফিকুল ইসলামের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই আজ বিশ্বের প্রায় ১৯২টি দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২১শে ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে—এমন ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন বক্তারা।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিন নদী পরিষদের ৪৩তম আসরের ৮ম দিনে কুমিল্লা গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুলের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক রাহুল তারণ পিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক সেলিনা পারভীন এবং এডভোকেট ও সাংবাদিক তাপস চন্দ্র সরকার।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থী আফরা ও আকলিমার সঞ্চালনায় গান, নাচ ও আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করে প্রমি, রূপন্তিকা, অর্ণব, সাকি, আফরোজা, সুমাইয়া, জুলি, কেয়া, অর্পিতা, সামিয়া, স্নেহা, উর্মি, ইসরাত, মরিয়ম, অন্তরা, রিপা, নিহা ও তাসফিয়া।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক অভিবাদনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পারভিন হাসানাত, সাংবাদিক ও শিক্ষক সুমাইয়া হাসানাত সময়, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিক্ষক নাসরিন আক্তার, সাংবাদিক সিয়াম, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক সুমি রানী পাল, গোপাল দত্ত চৌধুরী, মাহমুদা আক্তার, শিরিন আক্তার পারভীনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
অনুষ্ঠানটি ভাষা আন্দোলন ও মাতৃভাষার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অতিথিরা।